Deleted
প্রকাশ : Apr 11, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

বিরোধী দলের আপত্তির মুখে মানবাধিকার অধ্যাদেশ বাতিল করে নতুন বিল পাস

বিরোধী দলের প্রবল আপত্তিতে সংসদে মানবাধিকার কমিশন বিল পাস

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের তীব্র আপত্তি ও হট্টগোলের মুখে পাস হয়েছে ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (রহিতকরণ ও পুনঃপ্রচলন) বিল-২০২৬’। এই বিলটি পাসের মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা মানবাধিকার কমিশন সংক্রান্ত অধ্যাদেশটি বাতিল হয়ে গেল এবং ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের ২০০৯ সালের বিতর্কিত আইনটি আবারও কার্যকর হলো।

বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের অধিবেশন শুরু হলে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বিলটি উত্থাপন করেন। বিলটি পাসের প্রক্রিয়ায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য মো. আবুল হাসনাত (হাসনাত আবদুল্লাহ) জোরালো আপত্তি জানালেও কণ্ঠভোটে তা নাকচ হয়ে যায়।

'আওয়ামী আমলের দমন-পীড়নের আইন কেন?'

বিলটি উত্থাপনের পর ক্ষোভ প্রকাশ করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ২০০৯ সালের এই আইনটি মানবাধিকার রক্ষার বদলে ‘বিরোধী দল ও মত দমনের অস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। গত ১৭ বছর এই কমিশনের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, “বিএনপিকে দমন করার বৈধতা এই কমিশনই উৎপাদন করেছে। এমনকি জামায়াত নেতা-কর্মীদের গুলি করাকেও এই কমিশন বৈধতা দিয়েছিল।”

তিনি বর্তমান সরকারি দলের সদস্যদের সমালোচনা করে বলেন, “আপনারা চব্বিশের জুলাইয়ের আগে এই বিল পাসের বিরোধিতা করতেন। আজ চেয়ার পরিবর্তন হয়েছে বলে আপনারা চব্বিশের জুলাইয়ের চেতনা ভুলে আওয়ামী আমলের আইন ফিরিয়ে আনছেন।”

কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন

হাসনাত আবদুল্লাহ অভিযোগ করেন, ২০০৯ সালের আইনে সিলেকশন কমিটির গঠন এমন যে সেখানে ৬ জন সদস্যের মধ্যে ৫ জনই সরকারের লোক (স্পিকার, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী, সরকারদলীয় এমপি ও সচিব)। ফলে এটি কোনো স্বাধীন সংস্থা নয়, বরং সরকারের একটি দপ্তরে পরিণত হয়েছে। এছাড়া কোনো বাহিনীর বিরুদ্ধে তদন্ত করতে সরকারের পূর্বানুমতি নেওয়ার বিধানকে তিনি ‘স্বচ্ছতা বিরোধী’ বলে আখ্যা দেন।

শফিকুর রহমানের সংহতি

আলোচনার এক পর্যায়ে হাসনাত আবদুল্লাহর মাইক বন্ধ করে দেওয়া হলে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান ফ্লোর নেন। তিনি বিষয়টিকে জননিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত উল্লেখ করে আলোচনার সময় বাড়ানোর দাবি জানান। পরে স্পিকার আরও দুই মিনিট সময় দিলে হাসনাত আবদুল্লাহ সতর্ক করে বলেন, এই বিল পাসের মাধ্যমে ‘গুম অধ্যাদেশ’ ও ‘জুলাই গণ–অভ্যুত্থান দায়মুক্তি অধ্যাদেশ’ দুর্বল হয়ে পড়বে।

প্রতিক্রিয়াহীন সংখ্যাগরিষ্ঠতা

বিরোধী দলের এতসব আশঙ্কার পরও সরকারি দল তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে বিলটি পাস করিয়ে নেয়। এর ফলে মানবাধিকার কমিশন এখন থেকে ২০০৯ সালের পুরনো আইনি কাঠামোতেই পরিচালিত হবে, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

এক দিনেই কমলো সোনার দাম, তবে রুপার দামে নতুন ইতিহাস

1

আশা (ASA) এনজিওতে বিশাল নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি: আকর্ষণীয় সুযোগ ও সু

2

প্রাথমিকভাবে ১৩ এলাকায় মিলবে 'ফ্যামিলি কার্ড': তালিকায় আপনার

3

বেশি দামেই কিনতে হচ্ছে এলপিজি সিলিন্ডার

4

১৯তম শিক্ষক নিবন্ধনে শূন্য পদ ৭৭ হাজার ৭৯৯, বেশি সহকারী শিক্

5

শীতে অ্যাজমা বা হাঁপানি রোগী ভালো থাকবেন যে উপায়ে

6

মেট্রোর এমডি বদল কী বার্তা দিল

7

ময়মনসিংহে সড়কের পাশে ধানখেতে কাঁদছিল সদ্যোজাত নবজাতক

8

অর্পিত সম্পত্তি নিজের নামে নামজারির অভিযোগ, জালিয়াতির প্রমাণ

9

ঢাকা বোর্ডের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের সাড়ে ৮টা থেকে কেন্দ্রে প্

10

জ্বালানি তেল বিক্রিতে আজ থেকে রেশনিং থাকছে না, প্রয়োজনমতো

11

আত্মহননের বদলে আত্মোপলব্ধির হাইকু

12

বন্দুক ঠেকিয়ে বরের সামনেই নববধূকে অপহরণ করল প্রাক্তন প্রেমিক

13

সারাদেশে দৈনিক ৩ ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের শঙ্কা: সংকটে জনজীবন

14

এলপিজির দাম নিয়ে সুখবর দিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী

15

এআই সহায়ক, বিপর্যয়েরকারণ নয়: বাউবির ট্রেজারার!

16

ঈদযাত্রায় ট্রেনের দ্বিতীয় দিনের টিকিট বিক্রি চলছে

17

১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে: স্বাস্থ্যমন

18

হামে আক্রান্ত শিশুদের নিয়ে অভিভাবকদের যুদ্ধ

19

এক লাফে তেলের দাম বাড়ল ১০%: সাধারণ মানুষের কপালে চিন্তার ভাঁ

20
ফটোকার্ড বানাতে ক্লিক করুন